১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | মঙ্গলবার | বর্ষাকাল | বিকাল ৫:৪৬
সংবাদ শিরোনামঃ
ভেড়ামারায় এসএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা ভেড়ামারায় ‘মাদককে না’ বলে যুবদের মাঝে ফুটবল বিতরণ ঢাকাস্থ ভেড়ামারা সমিতির সদস্যদের জন্য সিমেক হেলথে অর্ধেক ছাড় ভেড়ামারা শহরের যানজট নিরসনে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত। কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি আব্দুল গফুরের উদ্যোগে অসহায় ও প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি / নদীভাঙনে বিলীন হওয়ার পথে ভেড়ামারার ফয়জুল্লাহপুর গ্রাম/ পরিদর্শনে জামায়াত নেতৃবৃন্দ কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ছিনতাইয়ের শিকার ডিম ব্যবসায়ীকে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে অর্থ সহায়তা প্রদান । রাজপথের লড়াকু সৈনিক মানবতার সেবক ভেড়ামারার স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এসএস. আল হুসাইন সোহাগ কুষ্টিয়া-পাবনা মহাসড়কে হিমেল সীমান্ত ও ঈগল এক্সপ্রেসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, আহত অর্ধশতাধিক কুষ্টিয়া কৃষ্টির ষষ্ঠ সংখ্যা মোড়ক উন্মোচন/ কৃতি সাঁতারুদের নিয়ে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশের উদ্যোগ!
মিঠু হাজীর প্রতি নাখোশ ভেড়ামারাবাসী/ তৃনমূলের পছন্দ আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল

মিঠু হাজীর প্রতি নাখোশ ভেড়ামারাবাসী/ তৃনমূলের পছন্দ আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল

শাহ্ জামাল :
উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ঢামাঢোল ভালো ভাবেই বেঁেজ উঠেছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন। চুলছেঁড়া বিশ্লেষনও শুরু করে দিয়েছেন সাধারন ভোটাররাও। তারা নতুন করে আর কোন ভুল করতে চান না। ভেড়ামারার উন্নয়নের শর্তে গত নির্বাচনে জাসদ (ইনু)’র প্রার্থীকে বাদ দিয়ে তারা বিজয়ী করেছিল আওয়ামীলীগের আখতারুজ্জামান মিঠু হাজীকে। কিন্তু বিগত ৫ বছরে নাম মাত্রও উন্নয়ন তো দূরের কথা জনগনের সাথেও নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেননি তিনি। যে কারনে তার উপর চরম ভাবে নাখোশ ভেড়ামারাবাসী। এ নির্বাচনে তিনি আবারো আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। কিন্তু জনগন তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।
অন্য দিকে, পরিবর্তনের আশায় আওয়ামীলীগের তৃনমূলের নেতাকর্মী, সুশীল সমাজ, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, সংগঠনের সভাপতি-সম্পাদক এবং পৌরসভার কাউন্সিলর বৃন্দসহ দলমত নির্বেশেষে সাধারন মানুষ চায়, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের বারবার নির্বাচিত প্যানেল চেয়ারম্যান, ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হোক। একমাত্র তাকে দলীয় প্রার্থী করতে পারলেই উপজেলা পরিষদের গুরুত্বপূর্ন চেয়ারটি আওয়ামীলীগ দখলে রাখতে পারবে। অন্যথায়, এখানে জাসদ বা জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়ে চেয়ার দখল করবে এমনটাই নিশ্চিত বলে মনে করেন রাজনীতি বিশ্লেষকরা।
ভেড়ামারা এবং মিরপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-২। এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু কে বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আওয়ামীলীগের কামারুল আরেফিন। এ নির্বাচনের পর থেকেই জাসদ-আওয়ামীলীগের অভ্যান্তরীন দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়ে উঠেছে। আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জাসদ চায় আধিপত্যা বিস্তার করে বিজয়ী হয়ে প্রতিশোধ নিতে। এজন্য তারা মরন কামড় দিতে সকল প্রস্তুতি সর্ম্পন্ন করেছে। তাদের প্রার্থী কেন্দ্রীয় জাসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল আলীম স্বপন। তিনি বিগত নির্বাচনে মাত্র কিছু ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন।
উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আখতারুজ্জামান মিঠু। তিনি এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেও প্রার্থী হবেন বলে ঘোষনা দিয়েছেন। কিন্তু এখনো তিনি গনসংযোগ সহ নির্বাচনী কোন প্রচারনা শুরু করেননি। তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হলেও আশানুরুপ ভোট পাবেন না, এমনটাই মনে করেন সাধারন ভোটার সহ দলীয় নেতাকর্মীরা। কারন হিসাবে তারা উল্লেখ করেছেন, বিগত ৫ বছরে উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে উল্লেখ করার মত কোন উন্নয়ন করতে পারেন নি। বা জনগনের সাথেও তিনি সখ্যতা গড়ে তুলতে ব্যার্থ হয়েছেন। সেক্ষেত্রে তাকে দলীয় প্রার্থী করা হলে, নির্বাচনী ফলাফল চলে যেতে পারে জাসদ সহ অন্য প্রার্থীর ঘরে।
এ ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগের বিকল্প বা শক্তিশালী প্রার্থী হিসাবে দলীয় নেতাকর্মীরা চান ক্লীন ইমেজের রাজনৈতিক, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল কে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে। মাঠ পর্য্যায়ের জরিপ শেষে দলীয় হাইকমান্ডের ইশারায় এবং দলমত নির্বিশেষে সাধারন মানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে নির্বাচনে মাঠে গনসংযোগ সহ প্রচারনায় নেমে পড়েন আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল। তিনি ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি। ক্লীন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসাবেও তার স্খ্যুাতি রয়েছে উপজেলা জুড়ে। স্বল্প সময়ের তার নির্বাচনী প্রচারনায় ব্যাপক গনজোয়ার সৃষ্টি হয়। উপজেলা ব্যাপী প্রায় সকল প্রগামেই তাকে প্রধান অতিথি করে তার প্রতি নিরংকুশ সমর্থন জুগিয়ে যাচ্ছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও ইউনিয়ন পরিষদের এক চেয়ারম্যান জানান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে উন্নয়ন বরাদ্ধের সবটুকু এবং ব্যাক্তিগত অর্থ দিয়ে তিনি ভেড়ামারা পৌরসভা, মোকারিমপুর, বাহাদুরপুর, জুনিয়াদহ এবং ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং সাধারন জনগনের জন্য ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করেন। ভেড়ামারা উপজেলার প্রায় সকল মসজিদ, মাদ্রাসাতেই রয়েছে তার উন্নয়নের ছোঁয়া। সম্প্রতি অনুষ্টিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রার্থী কামারুল আরেফিনের নির্বাচনী মাঠের মূল সম্বন্বয়কারী ছিলেন তিনি। এসময় তৃনমুল আওয়ামীলীগ ও সাধারন জনগনের সাথে তার গভীর সখ্যতা গড়ে উঠে। এ কারনেই মুকুল প্রার্থী হয়ে মাঠে নামার সাথে সাথেই তার পক্ষে কোমড় বেঁধে মাঠে নেমে পড়েন আওয়ামীলীগের নেতা কর্মী, সাধারন ভোটার, বীরমুক্তিযোদ্ধা এবং সুশীল শ্রেনী পেশার মানুষ।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল ১৯৮২ সাল থেকে আওয়ামীলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখাড় এই ছাত্রনেতা কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ভেড়ামারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, আওয়ামীলীগের প্রচার সম্পাদক, ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক’র গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ভেড়ামারা পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
ভেড়ামারা উপজেলা আওয়ামীলীগের এক দায়িত্বশীল নেতা বলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ আওয়ামীলীগের দখলে রাখতে হলে আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল কে প্রার্থী করার বিকল্প নেই। ক্লীন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসাবে তার উপজেলা জুড়ে সুনাম রয়েছে। তার সততা, কর্মর্স্পৃহা, উদ্দ্যোমী, ন্যায় পরায়ন এবং ভেড়ামারার উন্নয়ন করার মানুষিকতার কারনে তাকে সবাই পছন্দ করে। বর্তমান চেয়ারম্যান কেমন উন্নয়ন করেছেন, তা সকলেরই জানা। মানুষ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এ অবস্থায় তাকেই প্রার্থী করা হলে জাসদ সহ অন্য দল চেয়ারম্যানের পদ টি ছিনিয়ে নিতে পারে।
আবু হেনা মোস্তফা কামাল মুকুল বলেন, পরিবর্তনের আশায় দলমত নির্বেশেষে এবং নেতাকর্মীদের অনুরোধেই আমি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসাবে গনসংযোগ সহ প্রচারনায় অংশ নিয়েছি। ব্যাপক জনসমর্থন আমার দিকে। নেতাকর্মী এবং সর্ব সাধারন মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি যদি উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারি উন্নয়ন, সুশাসন, সমৃদ্ধি এবং দূর্নীতিমুক্ত ভেড়ামারা উপজেলা পরিষদ গড়ে তুলবো।

আপনার সামাজিক মিডিয়ায় এই পোস্ট শেয়ার করুন

Advertisement

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি। © সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত 2024